সোনামুখী ওয়েসিস

▇  সোমনাথ বেনিয়া


নিজের ভিতরে তাকালে দেখি সোনামুখী ওয়েসিস। হালকা জলের স্তরে বালির শুষ্কতার প্রতিচ্ছবি ভেসে আছে। এটা এক ধরণের নির্মমতা যার কাছে গাছের কাঁটা চেবানো উটের মুখ বেয়ে ঝরে পড়া রক্তের বর্ণমালা বুঝতে গিয়ে বেদুইনের জীবন শক্ত রুটির মধ‍্যাহ্ন হয়ে যায়। তবে কি এটা কোনো জাদুবাস্তবতা। সেই এক অখণ্ড জাদুবাস্তবতা ঘিরে রাখে মনের পর্যায়সারণি। যেন একটা দিন পেরোতে গিয়ে একটা রাত শুধু দোয়া করে কাটাতে হয়। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলে কিছু হয় না। যেমন কোনো কিছুই পালটায় না। আমরাই সেই বিষয়ে ধীরে ধীরে অভ‍্যস্ত হয়ে পড়ি। জিভের উপর জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি বুলিয়ে নিলেও শরীরের সতেজতার অভাব হয় না। এদিকে ভিতরে অসংখ্য বালিয়াড়ির জন্ম হয় প্রতিদিন। সেগুলো যেন সাইনোভিয়াল ডার্ক পপ। এসব চলন্ত, উড়ন্ত সময়। মাঝেমধ্যে বয়ঃসন্ধির প্রেম। কেটে যাবে, হেজে যাবে তবুও সম্মোহনী ভাব থেকে বেরোনো যাবে না। ও মাঝি দিলদরিয়ায় নৌকা ডুবিয়ো না! যেভাবেই হোক ঢেউয়ের শীর্ষ ভেঙে পাড়ে নিয়ে চলো। না-হয় একটু প্রেম প্রেম পেয়েছে, না-হয় রাতে ঘুম হয় না। মাথার ভিতরে অনবরত হেভি মেটালের শব্দকণা। তখন দুর্ঘটনার কথা কেন। হারিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন কেন। সমস্ত উত্তরই পজেটিভ। মার্জিনের সমস্ত রাফ সঠিক। গলার ট্রাকিয়া শতাংশহীনতায় ভুগবে না। লালা গ্রন্থিগুলোর আবেদনময়ী সাড়া থাকবে। অভ‍্যন্তরীণ পূর্ণপ্রতিফলন চরম সত‍্য হয়ে প্রতীয়মান হবে। বিলীয়মান রঙের কোনো লুকোচুরি খেলা থাকবে না। শ্বেতপাথরের শীতলতা আরামদায়ক চিহ্নরূপে রোমকূপের সঙ্গে সহবাসে যাবে। ভাবনা যত কঠিন, সমাধানের সমীকরণ তত নরম। উজ্জ্বলতার জাঁতাকলে নিজেকে পিষে দিলে সমস্ত নষ্ট কথা মোহনভোগ হয়ে যায়। বলতে হবে ভালো আছি। নির্মেদ মেঘের অভিপ্রায় অনুশোচনার কারণ হবে না। সমস্ত স্থানান্তরের পটভূমিকায় সুন্দরের ব‍্যাখ‍্যা থাকবে। ক‍্যাকটাসের ফুলের সৌন্দর্য চেতনায় বিশেষ ঘোর ধরিয়ে প্রজাপতির ফুরফুরে সরণ হয়ে যাবে। গুটিপোকার আত্মসংযম অতুলনীয় হবে ঝরে পড়া পাপড়ির শোকার্ত ভূমিকায়। চোখের ভিতর আর্কটিক গ্রীষ্ম দেখা দিলেও বৃষ্টি নামানো গান গেয়ে উঠবে এই চরাচরের ব‍্যস্ত বোধের ক্রোড়পত্র। এভাবে সোনামুখী ওয়েসিস একটি পূর্ণচুমুর আধার হয়ে উঠছে...

লেখক: কবি ও গদ্যলেখক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ