❑ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রেম দিয়েইতো সব মানুষের জীবন শুরু হয়। কোথাও যদি আমাদের কবিতায় সেই পূর্বরাগের ছোঁয়া লাগে, তাহলে জীবনের অন্য বিষণ্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রবেশ করার আগেই প্রাণ ভরে প্রেমের গান গেয়ে নিই। তারপর? তার পরেও কবিতার কথা থাকে— কোথায় চলেছ তুমি? কত দূরে? কীসের অন্বেষণে? শুধু বেচে-বর্তে থাকাই তো শুধু একজন মানুষের অন্বিষ্ট নয়।
নিজের ছোট্ট চিলেঘরটাতে বসে একতারা বাজিয়ে সারা জীবন প্রেম আর অপ্রেমের গান গাওয়া— তাও না। মানুষ কোন ঈস্বর—প্রেমিক—বৃক্ষ নয়; সারা জীবন ধরে তাকে রাস্তার পর রাস্তা হাটতে হয়। আর শুধুই কি রাস্তা হাঁটা? অর্ধেক জীবন তো তার পায়ের নীচে কোন মাটি ই থাকেনা। তাহলে কি রকম রাস্তা একজন মানুষের? একজন কবির? তাই জানতেই তো আমাদের সারা জীবনের পরিশ্রম
সময়—স্বদেশ—মনুষ্যত্ব—কবি—কবিতা—কবিতার পাঠক কোথাও যদি একসূত্রে বাঁধা যেত! হয়তো একদিন সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে; আমরা সবাই মিলে পরিশুদ্ধ হব।
মানুষের আশা অবিনাশী। চারিদিকের নরকের মধ্যেও মানুষ তাই স্বপ্ন দেখে। তখন স্বয়ং মৃত্যু এসেও যদি তার সামনে দাঁড়ায়– সে তাকে সহজে পথ ছেড়ে দেয় না– প্রশ্ন করে।
প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয় প্রশ্ন করাটাই হয়তো কবির ধর্ম।
(পুনঃপ্রকাশ করা হলো)
লেখকঃ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২ সেপ্টেম্বর, ১৯২০ — ১১ জুলাই, ১৯৮৫) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম খ্যাতনামা কবি। তার কবিতায় ভাষিত হয়েছে সমগ্র দুনিয়ার প্রতারিত মানুষের বেদনা, মানবতা-বিরোধী ঘটনার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ তীব্র-প্রতিবাদ।

0 মন্তব্যসমূহ
প্রাসঙ্গিক ও মার্জিত মন্তব্য করুন